রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ || অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮ || ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

Logo
Bongshi IT

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আবারো নদী ভাঙ্গন, আতঙ্কে সরে যাচ্ছে বহু পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট: 7:28 PM শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

৫৪

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আবারো নদী ভাঙ্গন, আতঙ্কে সরে যাচ্ছে বহু পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেওয়ের আঘাতে শুক্রবার সকাল থেকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনে নদী তীরবর্তী প্রায় ৩০মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । হুমকির মধ্যে রয়েছে ফেরিঘাট ও শতশত বসতবাড়ী। ভাঙন আতঙ্কে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নদী পাড় থেকে নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী ও স্হানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে অনেক আকুতি, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হলেও কার্যত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সরেজমিনে শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ও ১নং ফেরিঘাটের মাঝামাঝি মজিদ শেখের পাড়া এলাকার ৩০মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৫ টা থেকে শুরু হওয়া ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনে দৌলতদিয়া স্হানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবু মোল্লা, দেলোয়ার প্রামানিক ও মোকসেদ মুন্সীর বসত ভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে আবুল মন্ডল, মিলন শেখ, হারুন মুন্সি, টোকন মন্ডল, উজ্জল মন্ডল, রেজাউল, চান্দু মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। তারা সবাই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

আলাপকালে প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, ভাঙন রোধে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ ।কয়েকদিন আগে এখানে প্রথম দফার ভাঙ্গনে অর্ধশত পরিবার গৃহহীন হয়। এরপর সেখানে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্পে ৪ টি প্যাকেজে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছিল।কিন্তু হঠাৎ করে গত বুধবার থেকে (২৮জুলাই) তাও বন্ধ হয়ে যায়। তারা বলেন, আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ না করার কারনে এখন তার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের মতো অসহায়দের।আর এখন ফায়দা লুটছে ঠিকাদারসহ কিছু মানুষ।

চান্দু মোল্লা, হানিফ মন্ডলসহ কয়েকজন বলেন, কয়েক বছর পূর্বে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে ছিলো পদ্মা নদী। তখন থেকেই শুনে আসছি ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে ভাঙন শুরু হলে কিছু বালুর বস্তা ফেলা ছাড়া এখানে কোন কাজই হয়নি।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা মুন্সি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা মুন্সি বলেন, আমরা বহু আগে থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দৌলতদিয়া ঘাট এবং সংলগ্ন এলাকার ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছি।কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।চলমান ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে না।এর মাশুল দিচ্ছে এলাকার অসহায় সাধারণ মানুষ।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (গোয়ালন্দ) ইকবাল সরদার দাবি করেন,তারা কাজ বন্ধ রাখেন নি। তবে মাঝে দুইদিন লেবার সংখ্যা একটু কম ছিল।ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজ চলমান আছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

MUjib-100
MUjib-100
ফেসবুকে অমাদের ফলো করুন